রক্তের গ্রুপ সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন
আসুন জেনে নিন মেডিকেল সাইন্স কি বলে কোন রক্তের গ্রুপের রোগ প্রতিরোধ
ক্ষমতা বেশি। A, B, AB, O রক্তের গ্রুপের বৈ শিষ্ট্য এবং রোগের ঝুঁকি
সম্পর্কে জানব।রক্তের গ্রুপ কি সত্যিই শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নির্ধারণ করে?
আমরা সবাই জানি আমাদের দেহে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো রক্ত। শরীরের
বিভিন্ন অংশে অক্সিজেন উপস্থিত পরিবহন করে এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার
কার্যক্রমেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
মানুষের রক্তের গ্রুপ সাধারণত A, B, AB, O এই চারটি প্রধান
ABO গ্রুপে ভাগ করা হয়। পাশাপাশি আর এইচ ফ্যাক্টরের ভিত্তিতে
রক্তকে পজিটিভ ও নেগেটিভ হিসেবে ভাগ করা হয়। কিন্তু অনেকেই মনে প্রশ্ন
জাগে কোন গ্রুপের রক্ত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি?
আমরা প্রায়ই শুনতে পায় যে কোন একটি নির্দিষ্ট রক্তের গ্রুপের মানুষের রোগ
প্রতিরোধ ক্ষমতা অন্যদের তুলনায় বেশি। আবার কেউ কেউ মনে করেন ও পজেটিভ বা ও
নেগেটিভ রক্তের মানুষের শরীরে বেশি শক্তিশালী। এসব ধারণার পেছনে কতটুকু মেডিকেল
ভিত্তি রয়েছে তা জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সূচিপত্রঃ কোন গ্রুপের রক্তের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি
রক্তের গ্রুপ কি এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ
ব্লাড গ্রুপ হল মানুষের রক্তের একটি নির্দিষ্ট শ্রেণীবিন্যাস, যা মূলত লোহিত
রক্ত কণিকার পৃষ্ঠে থাকা নির্দিষ্ট এন্টিজেন এবং রক্তের প্লাজমা থাকা এন্টি বডি
এর উপস্থিতি বা অনুপস্থিতির ওপর নির্ভর করে। সহজভাবে বলা যায় মানুষের রক্তের
লোহিত রক্তকণিকার গায়ে থাকা বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে রক্তের
বিভিন্ন গ্রুপ ভাগ করা হয়।
A গ্রুপের লোহিত রক্ত কণিকায় A এন্টিজেন থাকে, B বি গ্রুপের লোহিত
রক্ত কণিকা B এন্তেজাম থাকে এবং AB গ্রুপের রক্ত কণিকায় A ও
B উভয় জন থাকে। অন্যদিকে O গ্রুপে লোহিত রক্ত কণিকায় A বা
B এন্টিজেন থাকে না। তবে এর অর্থ এই নয় যে O গ্রুপের রক্তে কোন
ডিজাইনই নাই।
রক্তের গ্রুপ জানা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ রক্ত সঞ্চালন, গর্ভাবস্থায় আর
এইচ সংক্রান্ত কিছু ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং নির্দিষ্ট চিকিৎসার ক্ষেত্রে। ভুল
রক্তের গ্রুপের রক্ত সঞ্চালন করলে অনেক সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই রক্তদানের
আগে রক্ত গ্রহণের সময় উপযুক্ত পরীক্ষা এবং ক্রসমেস করা অত্যন্ত জরুরী।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বলতে কি বুঝায়
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হলো শরীরের এমন একটি জটিল ব্যবস্থা, যা
ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ছত্রাক এবং অন্যান্য ক্ষতিকর জীবাণুর বিরুদ্ধে
প্রতিরক্ষা গড়ে তুলতে পারে। এই ব্যবস্থার সঙ্গে শ্বেত রক্তকণিকা, এন্টিবডি,
লিম্ফ্যাটিক সিস্টেম এবং বিভিন্ন অঙ্গ ও টিস্যু জড়িত।
রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সাধারণভাবে দুইটি প্রধান ভাগে ভাগ করা
যায়। প্রথমটি হলো সহজাত বা ইনেট ইমিউনিটি যা জন্মগতভাবেই উপস্থিত থাকে
এবং দ্রুত প্রতিরক্ষা দেয়। দ্বিতীয়টি হল অভিযোজিত বা
অ্যাডাপটিভ ইমিউনিটি যা নির্দিষ্ট জীবনকে চীনে তার বিরুদ্ধে বিশেষ
প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে। টিকা গ্রহণের মাধ্যমে এই অভিযোজিত প্রতিরোধ
ব্যবস্থাকে নির্দিষ্ট রোগের বিরুদ্ধে প্রস্তুত করা যায়।
শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শুধু রক্তের গ্রুপের নির্ভর করে না। জিনগত
বৈশিষ্ট্য, বয়স, পুষ্টির অবস্থা, দীর্ঘমেয়াদি রোগ, ওষুধের ব্যবহার, ঘুম এবং
পরিবেশসহ অন্য বিষয় এতে প্রভাব ফেলে। তাই শুধু রক্তের গ্রুপ দেখে কোন
ব্যক্তির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি না কম তার নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।
কোন রক্তের গ্রুপের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি
বৈজ্ঞানিকভাবে এখন পর্যন্ত কোন রক্তের গ্রুপকে সবার তুলনায় বেশি রোগ প্রতিরোধ
ক্ষমতা সম্পন্ন বলা যায় না। বিভিন্ন গবেষণায় রক্তের গ্রুপের সঙ্গে নির্দিষ্ট
সংক্রমণ বা কিছু রোগের ঝুঁকের সম্পর্ক দেখা গেছে। কিন্তু কোন নির্দিষ্ট রোগের
ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম হওয়া মানেই সামগ্রিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি হওয়ার
নয়।
কিছু গবেষণায় ABO রক্তের গ্রুপের সঙ্গে নির্দিষ্ট জীবন ও শরীরের প্রবেশ
কোষের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়া কিংবা সংক্রমণের তীব্রতার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। আবার
অন্য কিছু রোগের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের সম্পর্ক দেখা যায়। এসব ফলাফল রোগভেদে
আলাদা হতে পারে এবং জনসংখ্যা জিনগত বৈশিষ্ট্য ও অন্যান্য স্বাস্থ্যগত বিষয়ের উপর
ভিত্তি করতে পারে।
তাই শুধু ও পজেটিভ ও নেগেটিভ কিংবা অন্য কোন রক্তের গ্রুপের অধিকার হওয়ার কারণে
একজন মানুষকে বেশি শক্তিশালী বা বেশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন বলা সঠিক নয়।
সুস্থ থাকার জন্য সুষম খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপ, টিকা
গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
রক্তের গ্রুপ ও সংক্রমনের সম্পর্ক
রক্তের গ্রুপ এবং সংক্রমনের মধ্যে সম্পর্ক একটি গুরুত্বপূর্ণ মেডিকেল সাইন্স এর
গবেষণার বিষয়। কিছু জীবাণু মানুষের কোষের পৃষ্ঠে থাকা নির্দিষ্ট অনু বা গঠন
ব্যবহার করে শরীরে প্রবেশ করতে পারে। ABO রক্তের গ্রুপের সঙ্গে সম্পর্কিত
কিছু গঠন এ ধরনের প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখতে পারে।
কিছু গবেষণায় ABO রক্তের গ্রুপের সঙ্গে নির্দিষ্ট সংক্রমণের সম্ভাবনা বা
তীব্রতার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে ফলাফল সব রোগের ক্ষেত্রে একই রকম নয়। মেডিকেল
সাইন্স একটি রক্তের গ্রুপের সঙ্গে বেশি ঝুঁকি পাওয়া গেলেও অন্য গবেষণায় সেই
সম্পর্ক দুর্বল বা অনুপস্থিত হতে পারে।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ঝুঁকির সম্পর্ক মানেই সরাসরি কারণ প্রমাণিত
হওয়া নয়। কোন নির্দিষ্ট রক্তের গ্রুপের মানুষ একটি রোগ হওয়া সম্ভাবনা
তুলনামূলক ভাবে কিছুটা কম হতে পারে, কিন্তু তিনি সেই রোগের আক্রান্ত হবেন না এটা
নিশ্চয়তা নেই। একইভাবে অন্য রক্তের গ্রুপের মানুষ ওই রোগ হবেই এমন ধারণা ভুল।
তাই সংক্রমণ প্রতিরোধের জন্য হাত পরিষ্কার রাখা, নিরাপদ খাবার গ্রহণ, প্রয়োজনীয়
ঠিক নেওয়া এবং সুস্থ হলে যথাযথ চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। রক্তের গ্রুপ যাই হোক এসব
প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা সবার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
রক্তের গ্রুপ কি রোগ নির্ধারণ করে
রক্তের গ্রুপের কিছু রোগের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে, কিন্তু এটি একা কোনো
রোগ নির্ধারণ করে না রোগ নির্ণয়ের জন্য উপসর্গ, শারীরিক পরীক্ষা, চিকিৎসার
ইতিহাস এবং প্রয়োজনীয় ল্যাবরেটরির পরীক্ষার ফলাফল বিবেচনা করা হয়।
প্রয়োজন অনুসারে চিকিৎসক অন্যান্য পরীক্ষা বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ দিতে পারে।
কেউ বলে তার রক্তের গ্রুপ এমন তাই তার রোগ হবে না কিংবা কেউ বলে আমার
রক্তের গ্রুপ এমন আমার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল এই ধরনের সিদ্ধান্ত
বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক নয়। প্রতিটি মানুষের স্বাস্থ্যগত অবস্থা আলাদা এবং তার
মূল্যায়নের জন্য নির্বাচন তথ্য প্রয়োজন।
বিশেষ করে ডায়াবেটিস,, হৃদরোগ কিডনির সমস্যা দীর্ঘমেয়াদি সংক্রমণ কিংবা রোগ
প্রতিরোধ ব্যবস্থার কোন জটিলতা থাকলে শুধু রক্তের গ্রুপের উপর নির্ভর করা উচিত
নয়। চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী পরীক্ষা চিকিৎসা গ্রহণ করাই নিরাপদ পদ্ধতি।
রোগ
প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার কারণ কি
রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার কার্যকারিতা বিভিন্ন কারণে প্রভাবিত হতে পারে, যেমন
অপুষ্টি পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, কিছু দীর্ঘমেয়াদি রোগ, নির্দিষ্ট ওষুধের ব্যবহার
এবং বর্জনিত পরিবর্তন। আবার কিছু মানুষের জন্মগত রোগ প্রতিরোধ জনিত সমস্যা থাকতে
পারে।
শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি থাকলে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার স্বাভাবিক
কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত প্রোটিন ভিটামিন ও খনিজ
উপাদান না পেলে স্বার্থের ক্ষতি হতে পারে। তবে শুধু
কোন একটি খাবার খেয়ে বা একটি সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ পরে সব ধরনের রোগ
প্রতিরোধ জনিত সমস্যা দূর করা যায় না।
দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকলে, বারবার গুরুতর সংক্রমণ হওয়া কিংবা কোন সংক্রমণ
অসাভাবিকভাবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এসব উপসর্গের পিছনে অনেক কারণ থাকতে
পারে। পরীক্ষা ছাড়া শুধু রক্তের গ্রুপকে দায়ী করা সঠিক নয়।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর উপায় কি
রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সুস্থ রাখার প্রথম স্বাস্থ্যকর জীবন যাপন নিশ্চিত করা
দরকার। প্রতিদিনের খাবার শাক-সবজি, ফলমূল, ডাল, মাছ, ডিম, দুধ বা উপযুক্ত বিকল্প
এবং অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার রাখার চেষ্টা করুন। ব্যক্তির বয়স শারীরিক অবস্থা
এবং পুষ্টির চাহিদা অনুযায়ী খাবারের পরিমাণ ও ধরন নির্ধারণ করা উচিত।
পর্যাপ্ত ঘুম নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপ এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ
করাও গুরুত্বপূর্ণ। প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত প্রতি রাতে ৭ থেকে ৯
ঘন্টা ঘুমের লক্ষ্য রাখা উচিত। পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনের
টিকা গ্রহণ করা এবং দীর্ঘমেয়াদীর রোগ নির্ণয় রাখা দরকার।
ধূমপান এড়িয়ে চলুন এবং অ্যালকোহল গ্রহণ করলে তা নিয়ে সার্থগত ঝুঁকি সম্পর্কে
সচেতন থাকুন। অকারনে এন্টিবায়োটিক বা উচ্চমাত্রায় ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার
করবেন না। কোন পুষ্টির ঘাটতি থাকলে পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তা
পূরণ করা ভালো। মনে রাখবেন রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার জন্য কোন একক খাবার বা ওষুধই
সব রোগের থেকে নিশ্চিত সুরক্ষা দেয় না।
ঘুম ও ব্যায়ামের গুরুত্ব
পর্যাপ্ত ঘুম শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার জন্য
গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত ঘুমের অভাব শরীরের বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় অভাব ফেলতে পারে
এবং দীর্ঘমেয়াদি সামগ্রিক স্বাস্থ্য খারাপ করতে পারে। তাই প্রতিদিন নির্দিষ্ট
সময় ঘুমাতে যাওয়া ও ঘুম থেকে উঠার অভ্যাস তৈরি করা উপকার।
তবে অসুস্থ শারীরিক প্রতিবন্ধীকতা বা দীর্ঘ মেয়াদী রোগ থাকলে ব্যায়ামের ধরন ও
পরিমাণ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ঠিক রাখা উচিত। খুব বেশি ব্যায়াম করলেই রোগ
প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে এমন নয়। নিয়মিত এবং নিজের সক্ষমতার সঙ্গে
সামঞ্জস্যপূর্ণ শারীরিক কার্যকলাপই ভালো অভ্যাস।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নিবেন
কোন ব্যক্তির বারবার গুরুতর সংক্রমণ হলে সংক্রমণ দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে কিংবা
চিকিৎসার পরেও প্রত্যাশিত উন্নতি না হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া
উচিত। একইভাবে অকারণে ওজন কমে যাওয়া, দীর্ঘস্থায়ী জ্বর বা অন্য কোন
অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে বা অবহেলা করা ঠিক নয়।
তবে বারবার সর্দি কাশি হওয়া মানেই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল এমন
নয়। দিদি এলার্জি পরিবেশগত কারণ এবং একাধিক ভাইরাসের সংস্পর্শেও একই
ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তাই সঠিক কারণ নির্ণয়ের জন্য প্রয়োজনে
চিকিৎসকের মূল্যায়ন দরকার।
শ্বাসকষ্ট, বুকে তীব্র ব্যথা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া কিংবা অন্য কোন গুরুতর উপসর্গ
দেখা দিলে জরুরী চিকিৎসা নিন। রক্তের গ্রুপ জানার পাশাপাশি নিজের উপসর্গ
চিকিৎসার ইতিহাস এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ফলাফল সম্পর্কে সচেতন থাকা বিশেষ
গুরুত্বপূর্ণ।
শেষ কথাঃ
কোন রক্তের গ্রুপের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি এই প্রশ্নের উত্তর দিতে হলে প্রথমে
মনে রাখতে হবে কোন একটি রক্তের গ্রুপের সামগ্রিকভাবে সবচেয়ে শক্তিশালী রোগ
প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পূর্ণ বলা বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক নয়। A, B, AB ও
O প্রতিটি রক্তের গ্রুপে নিজস্ব বৈশিষ্ট্য রয়েছে। কিন্তু নির্দিষ্ট রোগের
ক্ষেত্রে রক্তের গ্রুপের সঙ্গে ঝুঁকির সম্পর্ক দেখা গেলেও তা নিয়ে একজন মানুষের
সামগ্রিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নির্ধারণ করা যায় না।
রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সুস্থ রাখতে সুষম খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত শারীরিক
কার্যকলাপ, প্রয়োজনে টিকা ও স্বাস্থ্যকর জীবন যাপন গুরুত্বপূর্ণ। কোন অস্বাভাবিক
উপসর্গ দেখা দিলে রক্তের গ্রুপের উপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ
নেওয়া উচিত।
সুতরাং, নিজের রক্তের গ্রুপ জানা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে রক্তের সঞ্চালন
নির্দিষ্ট চিকিৎসার ক্ষেত্রে। কিন্তু সুস্থ থাকার জন্য শুধু রক্তের গ্রুপের উপর
নির্ভর না করে নিজের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের যত্ন নিন। সঠিক স্বাস্থ্য তথ্য জানুন,
যাচাইবিহীন দাবি এড়িয়ে চলুন এবং প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ করুন।
স্বাস্থ্য বিষয়ে সতর্কতাঃ
এই পোস্টটি সাধারণ স্বাস্থ্য শিক্ষা উদ্দেশ্যে লেখা। এটি ব্যক্তিগত রোগ নির্ণয়,
চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ বিকল্প নয়। কোনো সার্থকতা সমস্যা থাকলে যোগ্য
চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
শাওন ল্যাব এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url