ব্লাড গ্রুপ এ টু জেড তথ্য

 

আমাদের শরীরে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো রক্ত। শরীরে অক্সিজেন ও পুষ্টি পরিবহন থেকে শুরু করে রোগ প্রতিরোধ এবং শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে রক্তের ভূমিকা অপরিসীম। কিন্তু সব মানুষের রক্ত এক ধরনের নয়। রক্তের কিছু নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য উপর ভিত্তি করে মানুষের রক্তকে বিভিন্ন গ্রুপ ভাগ করা হয়।

ব্লাড-গ্রুপ-এ-টু-জেড-তথ্য

রক্তে এই ভিন্নতার কারণেই তোর গ্রুপ সম্পর্কে জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে রক্তদান ও রক্ত গ্রহণ, অপারেশন, গর্ভাবস্থায় এবং বিভিন্ন চিকিৎসার ক্ষেত্রে সঠিক রক্তের গ্রুপ জানা জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

ABO ও Rh ব্লাড গ্রুপ সিস্টেম কি? পজিটিভ এবং নেগেটিভ বলতে কী বোঝায় এবং ব্লাড গ্রুপ জানা কেন গুরুত্বপূর্ণ এসব তথ্য বিস্তারিতভাবে এবার আমরা জানবোঃ

ব্লাড-গ্রুপ-এ-টু-জেড-তথ্য

 

ব্লাড গ্রুপ হল মানুষের রক্তের একটি নির্দিষ্ট শ্রেণীবিন্যাস, যা মূলত লোহিত রক্ত কণিকার পৃষ্ঠে থাকা নির্দিষ্ট এন্টিজেন এবং রক্তের প্লাজমা থাকা এন্টি বডি এর উপস্থিতি বা অনুপস্থিতির ওপর নির্ভর করে। সহজভাবে বলা যায় মানুষের রক্তের লোহিত রক্তকণিকার গায়ে থাকা বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে রক্তের বিভিন্ন গ্রুপ ভাগ করা হয়। 

সবচেয়ে পরিচিত ও গুরুত্বপূর্ণ দুইটি ব্লাড গ্রুপ সিস্টেম হলোঃ 

  •  ABO ব্লাড গ্রুপ সিস্টেম 
  • Rh ব্লাড গ্রুপ সিস্টেম

 

ABO হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও বহুল ব্যবহৃত ব্লাড গ্রুপ সিস্টেম। এই পদ্ধতিতে রক্তকে প্রধানত চারটি গ্রুপে ভাগ করা হয়।এই গ্রুপের নির্ধারণের মূলত রেড ব্লাড সেল এর পৃষ্ঠে থাকা A ও B এন্টিজেন এবং প্লাজমা তে থাকা সংশ্লিষ্ট এনটিবডি বিবেচনা করা হয়।

  • A গ্রুপঃ A  গ্রুপের লোহিত রক্তকণিকার পৃষ্ঠে A  এন্টিজেন থাকে এবং প্লাজমায় সাধারণত  এন্টি B এন্টিবডি থাকে। 
  • B গ্রুপ ঃ B গ্রুপের লোহিত রক্তকণিকার পৃষ্ঠে B এন্টিজেন থাকে এবং প্লাজমায় সাধারণত  এন্টি A  এন্টিবডি থাকে। 
  • AB গ্রুপঃ AB গ্রুপের লোহিত রক্তকণিকার পৃষ্ঠে A, B উভয় এন্টিজেন থাকে এবং প্লাজমায় সাধারণত  এন্টি A , B এন্টিবডি থাকে না। 
  • O গ্রুপঃ O গ্রুপের লোহিত রক্তকণিকার পৃষ্ঠে A, B উভয় এন্টিজেন থাকে না এবং প্লাজমায় সাধারণত  এন্টি A , B এন্টিবডি থাকে । 
Rh ব্লাড গ্রুপ সিস্টেম হলো রক্তের ভিতর পজিটিভ এবং নেগেটিভ নির্ধারণ করা।

ব্লাড গ্রুপের সঙ্গে আমরা প্রায়ই পজিটিভ অথবা নেগেটিভ দেখতে পাই। 
যেমনঃ A(+), A(-), B(+), B(-), AB(+), AB(-), O(+), O(-)
পুরো বিশ্বে মূলত এই আটটি গুরুপই প্রচলিত আছে। 

এখানে পজিটিভ বা নেগেটিভ সাধারণত Rh(D) এন্টিজেন এর উপস্থিতিতে বা অনুপস্থিতিতে নির্দেশ করে। 
ব্লাড-গ্রুপ-এ-টু-জেড-তথ্য
যদি Rh(D)এন্টিজেন থাকে তাহলে রক্তের গ্রুপকে Rh(D) পজেটিভ বলা হয় । 
আর Rh(D) এন্টিজেন না থাকে তাকে Rh(D) নেগেটিভ বলা হয়। 

নিজের ব্লাড গ্রুপ জানা অনেক সময় জরুরি হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করেঃ
  1. রক্ত সঞ্চালনার ক্ষেত্রেঃ রক্ত দেওয়ার আগে Donor ও Recipient এর রক্তের সামঞ্জস্য নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
  2. জরুরি পরিস্থিতিতেঃ দুর্ঘটনা বা অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের মতো পরিস্থিতিতে রোগীর প্রয়োজনে অনুযায়ী রক্তের ব্যবস্থা করতে ব্লাড গ্রুপ জানা সহায়ক।
  3. অপারেশনের ক্ষেত্রেঃ বড় ধরনের অপারেশনের আগে প্রয়োজন হলে রক্তের ব্যবস্থা করার জন্য ব্লাড গ্রুপ জানা গুরুত্বপূর্ণ।
  4. গর্ব অবস্থায়ঃ বিশেষ করে Rh নেগেটিভ মায়ের ক্ষেত্রে Rh incompatibility এই বিষয়টি চিকিৎসকরা বিবেচনা করেন।
  5. রক্তদানেঃ  নিজের ব্লাড গ্রুপ জানা থাকলে উপযুক্ত রোগীকে রক্তদানের ক্ষেত্রে সচেতনতা বাড়ে।



ব্লাড গ্রুপ সম্পর্কে জানা শুধু সাধারণ জ্ঞান নয়; এটি রক্তদান, রক্ত সঞ্চালন, জরুরী চিকিৎসা এবং গর্ব অবস্থায় মত বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। তবে ব্লাড গ্রুপ নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা পরিবর্তন 
বৈজ্ঞানিক ও নির্ভরযোগ্য  তথ্যের ওপর নির্ভর করা উচিত।



এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

শাওন ল্যাব এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

Md. Sawon Ahmed
একজন ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট ও শাওন ল্যাব এর এডমিন। তিনি অনলাইন ইনকাম, ব্লগিং, SEO ও মেডিকেল টেকনোলজি নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন। এই প্যাথলজির উপর তার ৭ বছরের অভিজ্ঞতা আছে এবং তিনি সকল পাঠকের মাঝে সহজ ভাষায় মেডিকেল রিলেটেড সকল বিষয় তুলে ধরে যাচ্ছেন।